এখন পর্য়ন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরান ঘড়ি(Ancient watch)


ঘড়ি এমন একটি যন্ত্র যা সময় নির্ধারণে সাহায্য করে। বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি দেখতে পাওয়া যায়, যেমন হাত ঘড়ি, দেয়াল ঘড়ি ইত্যাদি।

ঘড়ি আবিষ্কারের ইতিহাস-সূর্যঘড়ি : এটি প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি। আনুমানিক সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মিসর ও ব্যালিবনে এর উৎপত্তি।এটি আজও টিকে আছে। সেকেন্ড ও মিনিটের কাটা নেই,নেই কোন টিকটিক শব্দ। তবে সময় দেয় একদম নিখুঁত।গোলাকার চাকতিতে একটি নির্দেশক কাঁটা ও দাগ কাটা সময়ের ঘর,এ নিয়েই সূর্যঘড়ি।মাত্র ৭০০ বছর আগে লাতিন শব্দ ‘ক্লক্কা’ থেকে এসেছে ক্লক।ক্লক্কা মানে ঘন্টি।যদিও ইতিহাসেও এই মূল্যবান আবিষ্কারটির আবিষ্কারক হিসেবে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়না। তবে সূর্য ঘড়ির ব্যবহার শুরু অনেক কাল আগে থেকেই। ধারণা করা হয় মিশরীয়রাই প্রথম প্রকৃতিনির্ভর অর্থাৎ সূর্য-ঘড়ি নির্মাণ করেছিল আর ১৪ শতাব্দীতে এসে ইউরোপিয়ানরাই এই তত্বের উপর ভিত্তি করে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ি আবিষ্কার করেন।কিন্তু ১৪ শতকের দিকে নির্মিত ঘড়িগুলোতে শুধুমাত্র ঘন্টা নির্দেশ করতে সক্ষম হত, মিনিট বা সেকেন্ড নির্ণয় করতে পারতোনা। তাছাড়া বর্তমান ঘড়ির দুই ঘন্টা ছিল সেই ঘড়ির হিসেবে এক দিন, যার মানে একদিনে ঘড়িটি মাত্র দুবার ৩৬০ ডিগ্রী কোণে ঘুড়তে পারতো। অর্থাৎ এই ঘড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ নির্ভুল ও সূক্ষ সময় গণনা করা যেত না।অবশেষে ডাচ জ্যোতির্বিদ ক্রিশ্চিয়ার হাইজেন্স ১৬৫৭ সালে এসে সম্পূর্ণ নির্ভুলভাবে মিনিট, সেকেন্ড ও ঘন্টা নির্দেশকারী উন্নতমানের যান্ত্রিক ঘড়ির নকশা করেন।

ঘড়ির রকমফের
লন্ডনের নিউ প্যালেসএ অবস্থিতি একটি সূর্যঘড়ি
সূর্যঘড়ি
বালুঘড়ি
পানিঘড়ি
বৈদ্যুতিক ঘড়ি
পারমাণবিক ঘড়ি

হাতঘড়ি
এখন পর্য়ন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরান ঘড়ি।
হাতঘড়ি একটি ক্ষুদ্র ঘড়ি যা একটি ফিতার সাহায্যে কোন ব্যক্তির কজিতে যুক্ত করা হয়। নিরীক্ষন করা সময় এবং দিন, তারিখ, মাস এবং বছর কখনও কখনও প্রদর্শন করে। ১৫২৪তে, পিটার হেনেলিন প্রথম পকেট ঘড়ি তৈরি করেছিল। ১৯০০ খ্রীষ্টাব্দের পূর্বে, অধিকাংশ ঘড়িই ছিল পকেট ঘড়ি যা শেকলের মাধ্যমে পকেটের সাথে আটকে রাখা হত।। ১৯৭০ পূর্বে, সমস্ত ঘড়িতে একটি ঘুর্ণায়মান ঘন্টার কাঁটা এবং একটি দীর্ঘতর মিনিট কাঁটার সঙ্গে একটি নম্বরযুক্ত ডায়াল ছিল। ১৯৭ থেকে, ডিজিট্যাল ঘড়ি বাজারে আসে। ডিজিটাল ঘড়িতে সময় রাখতে ভেতরে ক্ষুদ্র কম্পিউটার রয়েছে। এতে ডায়লে কাঁটার পরিবর্তের একটি ডিজিটাল ঘড়ি একটি সংখ্যা হিসেবে সময় দেখায় (উদাঃ, ১০: ৩০ এএম)।

হাত ঘড়ির ব্যাপারটি এখন আর সময় দেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ঘড়ির টাইম ঠিক থাক আর না থাক স্টাইলিশ ফ্যাশনের জন্য হাতে ঘড়ি থাকা চাই-ই-চাই।

আপনার হাতেও যদি একটি স্টাইলিশ ঘড়ি থাকে তাহলে আপনার মন ভাল থাকবে আর ফ্যাশেনের মুড হবে একটু অন্য রকম। বর্তমানে বিভিন্ন বাজার ও অনলাইন মার্কেট প্লেস গুলোতে হরেক রকমের ফ্যাশনেবল হাত ঘড়ি পাওয়া যাচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে বড় ডায়ালের হাতঘড়ি পছন্দের শীর্ষে। ফ্যাশন আর প্রয়োজন- দুই মিলিয়ে মানানসই হাতঘড়ির দিকেই আগ্রহ তরুণদের। মোটা চেইন আর বড় ডায়াল, এমন ঘড়িই তরুণদের পছন্দ, তবে টিনএজাররা স্পোর্টস ঘড়ি পরতেই বেশি পছন্দ করে।

ক্যাজুয়াল লুকের ক্ষেত্রে চেইন আর বড় ডায়ালের ঘড়িই বেশি জনপ্রিয়। আর ফরমাল লুকের ক্ষেত্রে ছোট ডায়ালের চামড়া বা চেইনওয়ালা ঘড়িই বেশি মানিয়ে ।

তবে যেমন ঘড়িই হাতে দেওয়া হোক না কেন, তা নিজের ব্যক্তিত্ব বা পরিবেশের সঙ্গে কতটা মানানসই, তা বিবেচনা করতে হবে সবার আগে। বিশ্বের নামী-দামী ব্র্যান্ডের ঘড়ি এখন বাজারে পা্ওয়া যায়।

তার মধ্যে সিকো, টাইটান, রালফ লরেন, কেলভিন ক্লেইন, গুচি, রোলেক্স, ওমেগা, ক্যাসিও, টাইমেক্স, ট্যাগ হুয়ার অন্যতম। ডিজাইন এবং কোয়ালিটি ভেদে দাম একেকটির একেক রকম।

মেয়েদের এখন চওড়া বেল্টের হাতঘড়ির দিকে বেশি ঝোঁক। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ব্রেসলেটের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের ফেন্সি হাতঘড়ি পরা এখন মেয়েদের ফ্যাশন।

রঙ-বেরঙের স্টোন ও মেটালের আকর্ষণীয় কারুকার্যখচিত স্বল্পদামের চায়নিজ ফেন্সি ঘড়ির মধ্যে ভিকসে, হাইয়ুকু, টেস, বিটিএল প্রভৃতির নাম উল্লেখযোগ্য।1024px-German_-_Spherical_Table_Watch_(Melanchthon's_Watch)_-_Walters_5817_-_View_C