পাওয়ার ব্যাংক কিনছেন???এই বিষয় গুলা কি খেয়াল করছেন?? 2


buy power bank online

যুগ এখন স্মার্ট হওয়ার বা থাকার।হাতে স্মার্টফোন থাকা মানেই আমরা নিজেকে স্মার্ট মনে করি।সকাল সন্ধ্যা বা যে কোন মহূর্তে নিজেকে আপডেট রাখতে স্মার্টফোন ছাড়া নিজেকে কল্পনা করতে পারি না আমরা। আর স্মার্টফোন ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে।কিন্তু স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ে নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। বড় ডিসপ্লে,উচ্চ ক্ষমতার প্রসেসর সহ নানা কারণে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। আর এই সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করি পাওয়ার ব্যাংক।কিন্তু পাওয়ার ব্যাংক কিনতে গিয়ে আমরা পড়ি নানা সমস্যায়।কারণ আমরা জানিই না কোন পাওয়ার ব্যাংকটা ফোনের জন্য সঠিক।তাই আজকের আয়োজন পাওয়ার ব্যাংক এর কেনার ব্যাপার নিয়ে ।পাওয়ার ব্যাংক কেনার ব্যাপারে কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি আজ।তো চলুন শুরু করা যাক।

বেশির ভাগ মানুষ পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় চিন্তা করে সে কতটা এম.এ.এইচ এর পাওয়ার ব্যাংক কিনতেছে।কিন্তু সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা নিজের ফোনের প্রতি।আপনার ফোনের ব্যাটারির ক্ষমতার বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক কিনবেন।এটাই আপনার ফোনের জন্য মঙ্গলজনক।

আমরা পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করি জরুরী মহূর্তে মোবাইলে চার্জ করার জন্য।তাই আপনার ব্যবহৃত পাওয়ার ব্যাংকটি অবশ্যই হালকা,পাতলা,বহনযোগ্য আর শক্ত বা অধিক স্থায়ীত্বের অধিকারী হওয়া উচিত।মসৃণ পাওয়ার ব্যাংক কিনলে খেয়াল রাখবেন সেটা যেন শক্ত হয়,যাতে পড়ে গেলে নষ্ট যেন না হয়।

আমরা অনেক সময় কম টাকায় নিম্ন মানের পাওয়ার ব্যাংক কেনার চেষ্টা করি।কিন্তু আমাদের খেয়াল রাখা উচিত নিম্ন মানের পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করা খুবই বিপদজ্জনক।কারণ নিম্নমানের পাওয়ার ব্যাংক বিস্ফোরণ হওয়ার সম্ভবনা থাকে।তাই পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় ভালো ব্রান্ডের বা ভালো মানের পাওয়ার ব্যাংক কিনার চেষ্টা করা উচিত।

পাওয়ার ব্যাংকের এম.এ.এইচ,গঠন আর মান ছাড়াও আরেকটি বিষয় আপনার খেয়াল রাখা উচিত সেটা হলো পাওয়ার ব্যাংকের ব্যাটারির সেল।মূলত পাওয়ার ব্যাংকের কার্যক্ষমতা নির্ভর করে অনেকটা নির্ভর করে পাওয়ার ব্যাংকটির ব্যাটারির সেল।তাই এই দিকটা খেয়াল রাখা উচিত।

এবার বিষয়টি পাওয়ার ব্যাংক কেনার পর ব্যবহারের সময়ের।খেয়াল রাখবেন পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করার সময় অবশ্যই পাওয়ার ব্যাংকের সাথে প্রদত্ত এক্সেসরিস।কারণ এটার উপর আপনার সেটের নিরাপত্তা নির্ভর করে।তাই শর্ট সার্কিট সহ নানান সমস্যা এড়াতে পাওয়ার ব্যাংক কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত এক্সেসরিস ব্যবহার করা উচিত।

শর্ট সার্কিট একটি নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার বিশেষ করে চার্জিং এর সময়ে।তাই আপনি যে পাওয়ার ব্যাংকটি কিনতে যাচ্ছেন নিশ্চিত হয়ে নেন এটাতে শর্ট সার্কিট সুরক্ষা আছে কিনা।এটা আপনার জন্য বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিবে।

আমরা অনেকে রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল চার্জে লাগিয়ে ঘুমাই পড়ি। আবার মোবাইল চার্জ দিয়ে ভুলে যাওয়ার বিষয়টি তো আমাদের সকলের আছে।তাই অতিরিক্ত চার্জিং আপনার ফোনের কিংবা ব্যাটারির মারাত্নক সমস্যা হতে পারে।
তাই পাওয়ার ব্যাংক কিনার সময় জেনে নিন অতিরিক্ত চার্জিং সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে কিনা।

আমরা বিশেষ করে যারা থার্ড পার্টির চার্জার বা ব্যাটারি ব্যবহার করি।কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করলে দেখবেন এসব ব্যাটারি বা এক্সেসরিস ব্যবহার করলে মোবাইল গরম হয়ে যায়।যা খুবই বিপদজ্জনক ।এতে আপনার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।তাই পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আছে কিনা জেনে নিন।

অনেক নিম্নমানের পাওয়ার ব্যাংকের প্রধান সমস্যা হলো সঠিক পরিমাণে পাওয়ার বা চার্জ সরবরাহ করার ক্ষমতা না থাকা।তাই গায়ে বেশি ক্ষমতা লেখা দেখে খুশি হওয়ার কোনো দরকার নেই।আগে নিশ্চিত হয়ে নেন আসলে পাওয়ার ব্যাংকটি সঠিক আউটপুট দিবে কিনা।তাই এই দিকে আপনাকে জোর দিতে হবে।কেননা নিম্নমানের পাওয়ার ব্যাংক আপনার ফোনের জন্য মারাত্নক হুমকির।

পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইউএল সাটিফিকেট যাচাই করে নেয়া।এটি মূলত পাওয়ার ব্যাংকের পাওয়ার সাপ্লাই ক্ষমতা এবং কিউসি বা কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।তাই পাওয়ার ব্যাংক কেনার সময় ইউএল সাটিফিকেশন আছে কিনা দেখে কিনুন।

এছাড়া অন্যান্য সুবিধার বিষয় ফ্ল্যাশ লাইট বা টর্চ লাইট সুবিধা,ব্যাটারির মাত্রা নির্দেশক, অতিরিক্ত ইউএসবি ক্যাবল বা পোর্ট কিংবা ব্লুটুথ স্পিকার সহ নানান সুবিধা আছে কিনা যাচাই করে নিতে পারেন।

আজ তাহলে এই পর্যন্ত থামলাম।অনেক জ্ঞান দিয়ে ফেলেছি আপনাদের।কেউ বিরক্ত হলে মাফ করবেন।আগামীতে অন্য কোন বিষয় নিয়ে হাজির হওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।